Agniveer selection | স্থায়ী সৈনিকের মেধা তালিকায় নাম তোলার জন্য ৪ বছর ক্রমাগত মূল্যায়ন হবে অগ্নিবীরদের

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

কী এই অগ্নিপথ প্রকল্প?

প্রায় কয়েক দশক পুরনো যে পদ্ধতিতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে যুব প্রজন্মকে নিয়োগ করা হয়, সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনর্ত আনতেই অগ্নিপথ প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সীদের তিন বছরের জন্য ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনায় নিয়োগ করা হবে। প্রথম পর্যা য়ের্যা আপাতত ৪৬ হাজার জওয়ান নিয়োগ করা হবে। সমস্ত শ্রেণি-বর্ণেরর্ণে ও সম্প্রদায়ের কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীদেরই কর্মসংর্ম স্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোনো শ্রেণি বর্ণের ভেদাভেদ থাকবে না। চার বছরের চাকরির মেয়েদের মধ্যে ছয় থেকে আট মাস প্রশিক্ষণ চলবে চার বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও 25% কর্মীকে স্থায়ী কর্মী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।

এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ (Vice Chief of Army Staff) লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিএস রাজু (Lt Gen B.S Raju) News18-কে কি জানিয়েছেন?

ভবিষ্যতে ভারতের সৈন্যবল কেমন হতে চলেছে, সে বিষয়ে সেনা আধিকারিক এই নিয়োগ স্বচ্ছতার কথা জানিয়ে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, ২৫ শতাংশের জন্য যে সংরক্ষণ করা হবে তাতে কোনও ভাবেই অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার আশঙ্কা থাকবে না।

চালু হয়েছে ‘অগ্নিপথ নিয়োগ প্রকল্প’। দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কিন্তু তারপর থেকেই প্রতিবাদে উত্তাল দেশ। যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বরাবরই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়েও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

নতুন নিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানকারী অগ্নিবীরদের স্থায়ী সৈনিক হিসাবে নির্বাচনের জন্য একটি চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। কিন্তু তার আগে পরীক্ষা করে দেখা হবে তাঁদের। আর সেই পরীক্ষা এককালীন নয়। বরং একাধিক উদ্দেশ্যমূলক এবং বিষয়গত ধ্রুবকে ক্রমাগত মূল্যায়ন করা হবে চার বছর ধরে। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ (Vice Chief of Army Staff) লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিএস রাজু (Lt Gen B.S Raju) News18-কে এমনটাই জানিয়েছেন।

ওই বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যতে ভারতের সৈন্যবল কেমন হতে চলেছে, সে বিষয়ে সেনা আধিকারিক এই নিয়োগ স্বচ্ছতার কথা জানিয়ে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, ২৫ শতাংশের জন্য যে সংরক্ষণ করা হবে তাতে কোনও ভাবেই অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার আশঙ্কা থাকবে না। যাঁরা চার বছরেরও বেশি সময় সেনাবাহিনীতে চাকরি করার জন্য নির্বাচিত হবেন, তাঁদের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিচারেই নির্বাচিত করা হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজু বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টা বুঝতে পারছি, চার বছরের মেয়াদ শেষে সমস্ত অগ্নিবীরকে অবশ্যই এই আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে যে তিনি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন এতদিন। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি অস্ত্র এবং পরিষেবার জন্য অগ্নিবীরের যোগ্যতা পরীক্ষা করা হবে। আর তার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান স্থির করা হয়েছে। চার বছর ধরে ক্রমাগত মূল্যায়ন হবে।’’

প্রতি বছরের শেষে, অগ্নিবীরের শারীরিক সুস্থতা, ফায়ারিংয়ের দক্ষতা এবং অন্য অনুশীলনগুলির ভিত্তিতে তাঁকে মূল্যায়ন করা হবে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে আগ্নিবীরের মনোভাব এবং তৎপরতারও। এই মূল্যায়ন করবেন প্লাটুন কমান্ডার (platoon commander), কোম্পানি কমান্ডার (company commander) এবং কমান্ডিং অফিসাররা (commanding officer), যাঁদের সঙ্গে ভবিষ্যতে কাজ করতে হবে অগ্নিবীরদের।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজুর দাবি, আসলে সেনাবাহিনীও চায় সেরা সৈনিককে বেছে নিতে। তাই একেবারে সেরা পদ্ধতিতেই তাঁরা ভবিষ্যতের সেনানি নির্বাচন করতে চাইছেন। তিনি জানান, অগ্নিবীরদের মূল্যায়নের ধাপে ধাপে হলেও তা এক সঙ্গে সংগ্রহ করে রাখা হবে। বছরের শেষে মূল্যায়নের যাবতীয় তথ্য আপলোড করে রাখা হবে কেন্দ্রীয় ভাবে। একবার তা আপলোড হয়ে গেলে আর কোনও ভাবেই সেখানে মানুষের পক্ষে কোনও বদল করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বছরের শেষে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। চতুর্থ বছরের শেষে, সম্পূর্ণ ডেটা একত্রিত করা হবে। একত্রিত তথ্য থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই বেরিয়ে আসবে ফলাফল, তার ভিত্তিতেই মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। এতে বাইরে থেকে কারও হস্তক্ষেপের কোনও জায়গা থাকবে না বলে দাবি।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজু বলেন, প্রশিক্ষণের সময়কালে একজন অগ্নিবীরের পারফরম্যান্সের মূল্যায়নই করা হবে- তা নয়। একই সঙ্গে চলতে থাকবে কাউন্সেলিং। পুরো পরিকল্পনাটি চার বছর ধরে ক্রমাগত চলবে। প্রশিক্ষণের সময়কাল এবং তার পরের বছরগুলির জন্যও পৃথক মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে, যা অবশ্যই সময়োপগী হবে।

অগ্নিবীর দক্ষতা শংসাপত্র-

ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা বলেন, যারা ডিপ্লোমা নিয়ে বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন, তাদের জন্য এই প্রশিক্ষণ চলাকালীন অতিরিক্ত দক্ষতার যোগ্যতা অর্জন তাদের ডিগ্রি কোর্সের জন্য যোগ্য করে তুলবে। তিনি বলেন, অগ্নিবীররা তাদের সামরিক শাসনকালে ‘ক্রেডিট পয়েন্ট’ সংগ্রহ করবে, যা পরবর্তীতে কয়েক বছরের মধ্যে তাদের স্নাতক শেষ করার জন্য রিলিজ করা যেতে পারে।

সেনাবাহিনী কী ভাবে একজন ভারতীয় গ্রামীণ যুবককে স্থায়ী চাকরি এবং পেনশনের গ্যারান্টি ছাড়াই বাহিনীতে যোগ দিতে রাজি করাবে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যুবকদের চার বছরের জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে সেবা করার কঠোরতার মধ্য দিয়ে, এবং জাতির সেবা করার আনন্দ উপভোগ করুন।

রাজু বলেন, ‘তাঁদের এই মেয়াদে আর্থিক ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মেয়াদের শেষে সেবা নিধি প্যাকেজ থেকে এককালীন টাকা পাবেন অগ্নিবীর। তারপরেও তিনি নিজের পেশা বেছে নেওয়ার নানা রকম সুযোগ পাবেন।’

সম্পর্কিত পোস্ট