Cyclone Ashani: ঘূর্নিঝড় অশনি! আগামী সপ্তাহে রাজ্যে পাল্টে যাবে আবহাওয়া, দেখুন

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

Cyclone Asani: সোমবার আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু প্রস্তুতি। আগামীকাল, রবিবার এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। পূর্বাভাস আগেই ছিল। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল সেইমত। সোমবারই প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় অশনি। শনিবার থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া নিষেধ হয়ে গিয়েছে।

পূর্বাভাস আগেই ছিল। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছিল সেইমত। সোমবারই প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় অশনি (Cyclone Asani)। শনিবার থেকেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া নিষেধ হয়ে গিয়েছে। সমুদ্র তীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলিকেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী (IMD), ১৮৯১ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মার্চে বঙ্গোসাগরে ছ’টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। আরব সাগরে (Arabian Sea) সেরকম ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ছিল দুই। ১৯০৭ সালে শ্রীলঙ্কার উপকূল পার করেছিল একটি ঘূর্ণিঝড়। তারপর ১৯২৬ সালে আরও একটি ঘূর্ণিঝড় তামিলনাড়ুর উপকূল পার করেছিল। এবার ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ (Cyclone Asani) আন্দামান উপকূল পার করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন (IMD)।

রবি-সোমবার বঙ্গোপসাগরে তৈরি হবে ঘূর্ণিঝড়। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে “অশনি”। এই ঝড়ের নাম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগরের কাছাকাছি এর অবস্থান। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ আন্দামান সাগরে এই সিস্টেম আরও শক্তিশালী হবে।

শনিবার এটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবার সম্ভাবনা। আগামীকাল, রবিবার এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এখান থেকে উত্তর দিকে অগ্রসর হবে এই সিস্টেমটি। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকালে র মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিনত হবে। ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ উত্তর দিকে প্রাথমিকভাবে এগলেও পরবর্তীকালে এটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নেবে।  সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি  উত্তর মায়ানমার উপকূলে স্থলভাগে প্রবেশ করার সম্ভাবনা।

সরাসরি প্রভাব পড়বে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের জেলাগুলিতেও। এর সরাসরি প্রভাব আমাদের রাজ্যে না পড়লেও এর ফলে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকতে পারে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে। এর ফলে কিছু টা আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। সোমবার থেকে বুধবার এর মধ্যে আংশিক মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা উপকূলের জেলাগুলিতে। প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢোকায় অস্বস্তি বাড়বে।

আগামী চার-পাঁচ দিন একই রকম থাকবে আবহাওয়া। শুষ্ক ও গরম বসন্তের পরিবেশ। কলকাতার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শুধু দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা। বসন্তের পরিবেশে বাড়বে গরম। আগামী ৪/৫ দিনে তাপমাত্রা সামান্য  বাড়তে পারে। সকাল ও সন্ধ্যায় শীতের আমেজ উধাও হবে। আপাতত বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই। আজ সকালে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিক। গতকাল বিকেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ২৮ থেকে ৯৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় কোন বৃষ্টি হয়নি শহরে।

দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত নেই। এমনটাই পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দফতরের। জেলায় জেলায় সামান্য বাড়বে তাপমাত্রা। আগামী চার-পাঁচ দিনে দিনের বেলার গরম বাড়বে। সকালে ও সন্ধ্যায় শীতের আমেজ থাকবে না। রবি ও সোমবার দার্জিলিং কালিম্পং এ হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা। এছাড়া উত্তরবঙ্গের বাকি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও অক্ষরেখার রয়েছে বিদর্ভ এলাকায়। অক্ষরেখা রয়েছে বিদর্ভের ঘূর্ণাবর্ত থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত।  পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকেছে উত্তর পশ্চিম ভারতে।  নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না পড়লেও বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকবে আমাদের রাজ্যে। এর ফলে শুষ্ক আবহাওয়ার মাঝেই জলীয়বাষ্প বাড়তে থাকায় অস্বস্তিতে ধীরে বাড়বে। ২২ মার্চ মঙ্গলবার আংশিক মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলের জেলাগুলিতে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি, প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা। সঙ্গে ৭০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ভারতের দু-একটি রাজ্যে বিশেষ করে কেরাল, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা,  তামিলনাডু, পন্ডিচেরি, করাইকাল এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা। রবি-সোমবার নাগাদ বৃষ্টি হতে পারে উত্তর-পশ্চিম ভারতের দু-একটি রাজ্যে।

যদিও, বাংলায় এই ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Asani) সরাসরি কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর।

সম্পর্কিত পোস্ট