Face Book নিষিদ্ধ করলো রাশিয়া, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

শিশু, বৃদ্ধ, নারীরা অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছেন। পালানোর সুযোগ নেই। মুহুর্মুহু রাশিয়ান সেনাদের বোমা আর গুলি ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে হৃৎপিণ্ড। সাজানো সংসার, সুরম্য অট্টালিকা চোখের নিমেষে শেষ। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন কোনো এক মা। আকাশে শুধুই কালো ধোয়া আর ধোয়া। চারিদিকে তাজা বারুদের গন্ধ। হার হিম করা পরিস্থিতি।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক আগ্রাসনের (Russia invades Ukraine) দশম দিনে বড়সড় স্বস্তির খবর। ইউক্রেনের বড় দুটি শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) ঘোষণা করেছে পুতিন বাহিনী। বন্দর শহর মারিউপোল এবং ভোলনাভখায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার জন্য কার্যকর যুদ্ধবিরতি। ভারতীয় সময় বেলা সাড়ে ১২টা থেকে চলেছে এই যুদ্ধবিরতি।

এই দুই শহরের নাগরিকদের নিরাপদে ইউক্রেন ছাড়তেই এই সিদ্ধান্ত। এমনটাই সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর। যদিও মারিউপোলের স্থানীয় প্রশাসন এদিন যুদ্ধবিরতি চলাকালীন বন্ধ রেখেছিল সাধারণ নাগরিকদের উদ্ধারকাজ। ঘোষণা হলেও, যুদ্ধবিরতি মানছে না রুশ সেনা। এই অভিযোগ তুলে তারা উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে এমনটাই খবর।

এবার ফেসবুক নিষিদ্ধ করলো রাশিয়া:

রাশিয়ায় নিষিদ্ধ করা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। শুক্রবার দেশটির মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকোমনাদজর ফেসবুকের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফেসবুকে রুশ গণমাধ্যম ও সাইটগুলোর প্রতি যে ‘বৈষম্যমূলক’ আচরণ করা হচ্ছে, তার জবাব দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ২০২০ সালের অক্টোবরের পর থেকে আমরা অন্তত ২৬টি কেস পেয়েছি যেখানে রাশিয়ার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ফেসবুক। সামপ্রতিক সময়ে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি রাশিয়া টুডে, জভেজদা টিভি, আরআইএ ও স্পুটনিকসহ বেশকিছু রুশ গণমাধ্যমের এক্সেস সীমিত করে দিয়েছে।

রুশ গণমাধ্যম আরটি জানিয়েছে, ফেসবুকের মূলত কোম্পানি মেটা আরটি ও স্পুটনিকের মতো গণমাধ্যমগুলোর অ্যাকাউন্ট এক্সেস কেড়ে নিয়েছে। মেটা’র অভিযোগ এই রুশ গণমাধ্যমগুলো প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তবে এবার পাল্টা আঘাত হানলো রাশিয়া। দেশটিতে মেটা’র অধীনে থাকা অ্যাপগুলো ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে মেটা প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ বলেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাশিয়ান ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। হোয়াইট হাউসও এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তবে দেশটিতে ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ এখনো কাজ করছে। ফেসবুকের পাশাপাশি টুইটার ব্যবহারও সীমিত করেছে রসকোমনাদজর।

জানা গিয়েছে, বেলারুশে আয়োজিত দ্বিতীয় পর্যায়ের শান্তি বৈঠকে নিরীহ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সময় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছিল দুই পড়শি দেশ। কিন্তু যুদ্ধবিরতি সময়কালে মারিউপোলকে ঘিরে রাখছে রুশ সেনা। এমন অভিযোগ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে, রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ক্রেমলিন জানিয়েছে খারকিভ এবং সামিতে আটক বিদেশী নাগরিকদের ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। বিশেষ বাস পাঠিয়ে ভারত-সহ অন্য দেশের নাগরিকদের

রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সিঙ্গাপুর

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশ্চুক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করে রাশিয়া যেন তার সেনাবাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে না আসে। ইউক্রেনের বাহিনীর অবস্থানগুলোর দিকে রুশ বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করছে তার সরকার। তিনি বলেন, আমরা এই রাস্তাগুলো দিয়ে বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশুদের উদ্ধার করে আনবো। একইসঙ্গে শহরে যারা থেকে যাবেন তাদের কাছে মানবিক সাহায্যও পৌঁছানো হবে এ রাস্তা দিয়ে।

সম্পর্কিত পোস্ট