রাজ্যে চাকরির নিয়োগ পত্র ১০ হাজার বেকারকে

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest

কলকাতা ফিরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাওয়ার আগে দশ হাজার বেকার যুবক-যুবতীর হাতে তুলে দিয়ে গেলেন চাকরির নিয়োগপত্র। মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিনব কর্মসংস্থানের প্রয়াসে উদ্বুদ্ধ জঙ্গলমহলের যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। এদিন মঞ্চ থেকে মমতা নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সাফ জানিয়ে দেন, ‘আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে কর্মসংস্থানে বাংলাকে এক নম্বরে নিয়ে যাব। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।’

রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পলিটেকনিক, আইআইটি, ভোকেশনাল কিংবা কারিগরি শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন জঙ্গলমহলের ছেলেমেয়েরা। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গত জুলাই ও আগস্ট মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘জব ফেয়ার’এর আয়োজন করেছিল কারিগরি শিক্ষাদপ্তর। তাতে বিভিন্ন নামী কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার বেকার যুবক-যুবতী। তারমধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে ১০ হাজারজনকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার খড়্গপুরের সভা থেকে জঙ্গলমহলের ১০ হাজার যুবক-যুবতীকে একইভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল। পুজোর আগেই শিলিগুড়ি থেকে বাকি ১০ হাজার জনকে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিলিগুড়িতেও আমি একদিন নিয়োগপত্র বিলি করব। সেদিন উত্তরবঙ্গ থাকবে, আর বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, মালদহের ছেলেমেয়েদের ভার্চুয়ালি নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
এদিন খড়্গপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত ছিলেন দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার প্রায় ১০ হাজার যুবক-যুবতী। মূল মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ, জেলার পুলিস সুপার দীনেশ কুমার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টাটা মেটালিক, টাটা মোটরস, লারসেন অ্যান্ড টুবরো সহ বিভিন্ন কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তাঁদের কোম্পানিগুলিতে কাজ পাওয়া কয়েকজন ছেলেমেয়ের হাতে এদিন সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও রাজ্যে কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেউচা পাচামিতে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তর কয়লা শিল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেখানে একলক্ষের বেশি ছেলেমেয়েকে চাকরি দেওয়া হবে। ডানকুনি থেকে অমৃতসর করিডর হচ্ছে। এর ফলে ডানকুনি থেকে পনাগড়, পানাগড় থেকে বড়জোড়া, সেখান থেকে পুরুলিয়া, রঘুনাথপুর, সারা রাস্তার দু’ধারে ইন্ডাস্ট্রি হবে। এছাড়াও জঙ্গলমহল সুন্দরী প্রকল্পে ২২২৫ একর জমিতে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। কয়েকলক্ষ ছেলেমেয়ে তাতে চাকরি পাবে। 
গত কয়েক বছরে কত চাকরি দিয়েছেন, এদিন তারও হিসেব দেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে চোখে দেখতে পায় না। লেদার ইন্ডাস্ট্রিতে আড়াই লক্ষ ছেলেমেয়ের চাকরি হয়েছে। সারা ভারতবর্ষে চাকরির সংখ্যা ৪৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। কিন্তু বাংলায় বেকারির সংখ্যা কমিয়ে আমরা ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান বাড়িয়েছি। আসলে আমরা চুপচাপ কাজ করি বলে লোকে জানতে পারে না।

সম্পর্কিত পোস্ট